মধুরেণ

/মধুরেণ
মধুরেণ2018-09-04T02:27:26+00:00

কোলকাতা শহরে প্রায় সারা বছরই গরম, মাস বিশেষে বাড়ে কমে। পুজোয় যথারীতি খুব গরম। তা তখন যিনি দুঃখসুখের কারণ হয়ে বিরাজ করতে শুরু করেছেন রিনির জীবনে, পুজোর মারকাটারি ইম্পর্টান্ট দিনগুলোতে তার সঙ্গে কথাবার্তা দেখাসাক্ষাত নেই। এই পুজোটা স্পেশাল কারণ এটা ‘ওদের’ প্রথম পুজো, পরের এবং তারও পরের অনেকগুলো পুজো হয়ত ও থাকতেই পারব না কলকাতায়। আর রিনির কোনদিনই পুজোয় দারুন ‘এনজয়’ করে ওঠা হয়নি, সুতরাং গড়পড়তা বাঙালি ছেলেমেয়েদের পুজোর প্রেমের যে স্মৃতি গুলো থাকে, তেমন কিছু ওর জীবনে নেই। ব্যাপারটা নিয়ে মেয়ের বেশ দুঃখমতই আছে বলা যায়। পৃথিবীর সব্বাই বউ বাচ্চা, সদ্যপ্রেমিকা, পুরনোপ্রেমিকা, হবুপ্রেমিকা যাকে পারে তাকে নিয়ে হালফ্যাশনের নতুন জামা জুতো ব্যাগ চুল নখ ত্বক আরো যা কিছু ঝলমলানো সম্ভব সব ঝলমলিয়ে গদগদ মুখে ঘুরতে বেরোচ্ছে, আর রিনির তেনার ভীষণ কাজের ব্যস্ততা, রিনির সঙ্গে বেরোনো তো পরে, কথা বলারও সময় নেই। স্বাবাভিকভাবেই প্রচন্ড হতাশ এবং ব্যথিত, তবু আশায় মরে চাষা, সুতরাং সে বিউটি পার্লারে গিয়ে একগাদা পয়সা গচ্চা দিয়ে এসে এখন বসে বসে হাত কামড়াচ্ছে পুজো শুরু হতে না হতেই।

সপ্তমীর বিকেল। রাগে দুঃখে অভিমানে কেঁদেকেঁদে রিনির ফেসিয়াল এর জেল্লাটেল্লা সব গায়েব, ওদের আবাসনে পঞ্চমীর আগে থেকেই পুজো শুরু হয়ে যায় ,সব্বাই সারাদিন নীচে মন্ডপেই থাকে, সারাবছর দেখাসাক্ষাত হয়না যাদের সঙ্গে সারাদিন বসে বসে গুলগাপ্পি চলে, খাওয়া দাওয়া সব নিচেই, সুতরাং মা কাকিমারাও আর কেউ বাড়ি ওঠেননা শুধু সাজগোজ করাটুকু ছাড়া। তা রিনির কাছে আপাতত সবই অসহ্য লাগছে, শরতের ঝকঝকে আকাশও সে মেয়ের মনের মেঘ সরাতে পারছে না। একটা নতুন জামার ভাঁজ খুলে উল্টেও দেখেনি সারাপুজো, খেতে নামাটুকু ছাড়া একবারও নিচে পূজামণ্ডপে নামেনি, একটা কানের দুল অবধি পরেনি। এমন ভাবেই অষ্টমীও কেটে গেল অপেক্ষায় অপেক্ষায়। রোজ ফোন আসে, কি করছ, কিন্তু ভুলেও বলে না একজন আমরা বেরোব। অষ্টমীতে আবার দ্যাখে সেলফি, “তোমার দেওয়া হলুদ পাঞ্জাবিটা পরে অঞ্জলি দিলাম”, সঙ্গে একটা হাসিমুখ। অসহ্য রাগ হচ্ছে রিনির,আবার ভালোই লাগছে, কিন্তু জিদ্দি করে কিছুতেই একবারও নিজে থেকে জিজ্ঞেস করছে না “আমরা কি বেরোবো?” খাওয়া দাওয়ার অনিয়ম আর কান্নাকাটিতে শরীরটাও বেশ খারাপ করছে এবার, তা করুক, দেখা যাক কতটা খারাপ হয়। থোড়াই তাতে কারও কিছু যেন এসে যায় !

তা পরিস্থিতি যখন এমন ঘোরালো, এমত অবস্থায় নবমীতে উজবুকটার অতি ব্যস্ত ফোন “আজ আমরা বেরোচ্ছি, কখন আসতে পারব ঠিক নেই, বাড়িতে খেতেই হবে দুপুরে, রেডি হয়ে থেকো বিকেলে, একটা জায়গায় যাবো, অন্যরকম। গোপন সূত্রে খবর পেয়েছি। গিয়ে দেখি ব্যাপারটা কি, বুঝলে?” কখন আসবে কিছু বলা নেই, কোথায় যাব কিছু ঠিক নেই, শুধুমাত্র ‘যাব’, এইটুকু ব্যাস! রিনিরও যে একটা বাড়ি আছে, সেখানে ঝুড়িঝুড়ি মিথ্যে বলে ম্যানেজ করতে হয়, রাতে খাব কিনা বলে যেতে হয়, সেসব চিন্তা কখনো ও করেছে? নিজের ইচ্ছেটাই সব! তবু বুকের মধ্যে পুজোর ফ্যাকাশে রোদ্দুরটা এবার একটু একটু হাসছে। উফ! কখন যে বিকেলটা আসবে!

ও ইচ্ছে করেই কিছুই ঠিক করেনি কোন জামা পরবে, কোনো ম্যাচিং কানের দুলটুল কিচ্ছু না, অবশ্য আছেই একটা মাত্র জামা, তাও গোলেমালে কেনা হয়ে যাওয়া, শপিংই তো করেনি। রিনি এমনিই সাজেনা, ওর সঙ্গে বেরোলে আরোই না, কেমন লজ্জা করে যেন ওর, মনে হয় অতিরিক্ত, ও যেমন তেমন ভাবেই জানুক নাহয়। যাইহোক, তার বাড়ি ভর্তি লোক, আয়না অবধি যাবার উপায়টুকুও নেই, সাজগোজ তো দূর অস্ত। সবার অসীম কৌতূহল, কার সঙ্গে বেরোচ্ছিস, সম্পর্কটা শুনে আরোই দ্বিগুন সন্দেহ, কোথায় থাকে, কি করে, সব প্রশ্ন কাটিয়ে সে অবশেষে যখন জামাটা পরতে পারলো ততক্ষণ উনি প্যাচপ্যাচে গরমে ঘেমে স্নান করে পুজোর পাবলিক এর গুঁতো খেতে খেতে রিনির বাড়ির সামনের রাস্তায় এসে পড়ে প্রায় আধঘন্টা ভিড় রাস্তায় অপেক্ষমান। প্রতিবার ফোন আসছে, সবাই হামলে পড়ছে ফোনের উপরে “বাব্বা ,এতো তাড়া!” রিনিও বলেই যাচ্ছে “এই এক্ষুনি বেরিয়ে গিয়েছি প্রায়, চুল আঁচড়াচ্ছি।”
অবশেষে – “এত সাজার কি আছে, আমিই তো দেখবো, তোমার সুন্দর হবার জন্য কি সাজার দরকার পড়ে? আমি কিন্তু চলে যাচ্ছি!”
“এসে গিয়েছিইই” পেরিয়ে টেরিয়ে যখন গিয়ে পৌঁছতে পারলো অমনি পেছনে লাগা শুরু “এতক্ষণে এই সাজলে? কেউ তো তাকাবে না মোটুরাম!” রেগে মেগে একশেষ মেয়ে।

“চলো চলো ,অনেক দেরী হয়ে গিয়েছে,জায়গাটা চিনিও না, খুঁজতে হবে”, ওর লম্বা লম্বা পায়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে রিনি অনবরত পিছিয়েই পড়ছে আর বকাও খাচ্ছে , খুব রাগ হচ্ছে ওর , শরীর তো এমনিই খারাপ, হাত ধরা তো দূরের ব্যাপার, একবার পিছেও ফিরছে না। মেট্রোতে হঠাতই মনে হলো ব্যাপারটা তো ঠিক সুবিধার ঠেকছে না, এত ব্যথা করছে কেন, তবে কি ??? একটা লং কুর্তি পরে আছে রিনি, তাও আবার হলুদ, তুলে বসাও যাবে না! প্রথম বার পুজোর ওর সঙ্গে বেরোনো হলো এতো যুদ্ধ করে, তার মধ্যে এসব! ভীষণ লজ্জা করছে ওর। স্টেশন আসতে উঠে দাঁড়াতেই ব্যাপার একদম স্পষ্ট, জানাতেই হলো তেনাকে করুণ মুখে, লজ্জার মাথা খেয়ে। বেচারা একদম দিশেহারা “কি হবে!” ওর মুখ দেখে হাসি পেয়ে যাচ্ছে রিনির টেনসন এর মধ্যেও, “চল দেখি উপরে উঠে কি করা যায়।”

উপরে উঠেই জীবনের সেরা পুজো অভিজ্ঞতাটা হলো। কোলকাতার অন্যতম ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে, নবমীর সন্ধ্যায় একটাও ওষুধের দোকান খোলা নেই। ব্যথায় কালি হয়ে গিয়েছে মুখ রিনির, হেঁটেই যাচ্ছে ওই অবস্থায়, যত হাঁটছে ততই তার শারীরিক অবস্থা, জামাকাপড়ের অবস্থা বিপদসীমা পেরিয়ে যাচ্ছে। একটার পর একটা ওষুধের দোকান, সব বন্ধ, চোখে জল এসে যাচ্ছে, ও বেচারাকেও কি বিপদে ফেললো সে! এই জায়গাটায় যাওয়া ওর জন্য খুব জরুরী, সে জানে, আরতির নির্ধারিত সময় প্রায় হয়ে এসেছে, এখনো জায়গাটা খুঁজেই পাওয়া যায়নি। কেউ বলতে পারছে না, ওষুধের দোকানও পাওয়া যাচ্ছেনা, জায়গাটাও না। চুপ করে আছে মেয়ে, ব্যথা সহ্য করতে পারছে না যে আর! অবশেষে পাওয়া গেলো একটা দোকান, অবাক হয়ে দেখলো, রোজকার মতো ইয়ার্কি মেরে সে ছেলে একবারও বললোনা যে পয়সা নেই! “পার্সটা নাও, যা লাগে দিয়ে দাও, যা নেবে ভালো কোয়ালিটি নিও।” এইখানে একটু বলে নেওয়া প্রয়োজন, সে মুহূর্তে এই “যা লাগে নিয়ে নাও” বলাটা সদ্য চাকরি ছেড়ে আসা একজন মানুষের পক্ষে বলাটা কতখানি কঠিন ছিল পরে একদিন জানতে পেরেছিলো রিনি। ওষুধ, স্যানিটারি ন্যাপকিন তো কেনা হলো, এবার সমস্যা পরিষ্কার হবার জায়গা।

আবার একপ্রস্থ হাঁটা ,খোঁজ খোঁজ। যে ছেলে সবসময় হনহনিয়ে হাঁটে রাস্তায়, কোনদিন দেখেও না রিনি আসছে কিনা সে এবার ওর হাত ধরেছে,”কষ্ট হচ্ছে না তোমার খুব?”
“তুই চলে যা, দেরী হয়ে গিয়েছে তো ভীষণ, আরতি শুরু হয়ে গিয়েছে এতক্ষনে, আমি ঠিক চলে যাব শুনে শুনে, ওটা জরুরী” বলেছে যেই রিনি টয়লেটটা খুঁজে পেতেই,
ওকে অবাক করে দিয়ে সে বলছে “না, হোক মিস, এটাও জরুরী। কিভাবে নিয়ে ঢুকবে টয়লেট এ? লোক দাঁড়িয়ে আছে তো !এই প্লাস্টিকটায় জড়িয়ে নাও, যাও। আমি দেখি জল পাই কিনা ,ওষুধটা না খেলে তো ব্যথা কমবে না।”

তারপর ছুট ছুট ছুট। গিয়ে দেখা গেল আরতি শুরু হয়নি ভাগ্যিস ! সে ছেলে রিনিকে পেছনে একটা চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে চলে গেল সামনে। ওদের যাদের ছবি নিয়ে কারবার তাদের তো অ্যাঙ্গেল, পজিসন এসব খুব গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হয়। কি ভীষণ গরম আর ধোঁয়া! সে ছুটে ছুটে ছবি তুলছে ওই ভারী ক্যামেরার ব্যাগ ঘাড়ে করে , বার বার লেন্স পাল্টাচ্ছে , সপসপ করে ঘামছে , পেছনে এত দূর থেকেও রিনি বুঝতে পারছে। ছবি তোলার সময় পৃথিবী একদিকে, ও অন্যদিকে রিনি জানে, এই নিয়ে কম অশান্তি হয়নি। দিনের পর দিন ছবিই সব, ওর জন্য এতটুকু সময় নেই! সেও এবার আর পেরে উঠছে না, ভাবছে দূরে থাকাই ভালো। কিন্তু একী ! ওর চোখ থেকে অঝোরে জল পড়ছে, সে ছেলে যে পিছনদিকে ফিরছে বারবার, খুঁজছে রিনি কোথায়! পেটে ব্যাথাটা ওর করেই যাচ্ছে ,সামনে যে আরতি হচ্ছে – অপূর্ব, ঢাকের আওয়াজ, কাসর ঘন্টা, বিশাল বিশাল প্রদীপ নিয়ে আরতি করছেন একাধিক পুরোহিত, ধোঁয়া আর উজ্জ্বল আলোর মিশ্রনে চারিদিক আবছা, কি একটা মোহ রিনিকে অভিভূত করছে। খুব ক্ষিদে পেয়েছে ওর, কি একটা বিচ্ছিরি ছাই অসুখ আছে তার, ক্ষিদে পেলে আর তারপর না খেলে যন্ত্রণা শুরু হয় পেটে, খুব তাড়াতাড়ি পেরিয়ে যায় সহ্যের মাত্রা, বমি হয়ে যায় শেষে। সে সামলাবার জন্য বার বার জল খাচ্ছে আর ছেলেটিকে দেখতে দেখতে অসহ্য সুখে চোখের জলে ভাসছে নিজের অজান্তেই। ঠিক পাশেই একজন বয়স্ক ভদ্রলোক ব্যাপারটা কি ঠিক বুঝতে না পেরে বার বার ওর দিকে তাকাচ্ছেন। ঢাকের আওয়াজ , চোখ ধাঁধানো আলো, সুবেশিত মানুষের ঢল, ধুনোর ধোঁয়া, দূর্গা মায়ের মুখ, ব্যথা, ওর ঘামে ভেজা পুরনো কালো টি-শার্ট, ক্যামেরায় মনোযোগী চোখ, সব দেখতে দেখতে রিনির মনে হচ্ছে – এই মুহুর্তগুলো অনন্ত। আর ওর চেয়ে বেশী সুখী এবং বেশী অভাগা মেয়ে আর কেউ নেই। সারা পৃথিবীর সামনে ও রিনির নয়, কখনো হতে পারবে না হয়তো, প্রথম থেকেই এই আপাতনিরীহ দুঃসহ সত্যিটা জানে সে। হওয়ার গরজও যে খুব বেশি আছে তাও তো মনে হয়না। তবু আজ ঠিক এইখানে বসে, এইসব লোকজন, জমকালো আলো, মায়ের আরতির মাঝে অসম্ভব যত্নে চোখের জলে গলে গলে যাচ্ছে তার রাগ দুঃখ অভিমান কষ্ট টষ্ট সব।

আরতি শেষ হতে হতে বেশ রাত, যেই সে এসে দাঁড়ালো রিনির পাশে, ধোঁয়ায় চোখ লাল, আশেপাশের যারা ওকে দেখছিলো সবাই আড়চোখে একবার মেপে নিলো রিনিকেও, সে না তাকিয়েও দিব্বি টের পাচ্ছিলো আর ব্যাপারটা বেশ উপভোগও করছিলো, বাবুর কিন্তু কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই, এক ঘন্টার ধরে যুদ্ধ করে ক্লান্ত, ঝপ করে একটা লেন্স রিনির হাতে ধরিয়ে দিয়েই বললো ” একি, জল কেন চোখে, ব্যথা কমেনি? ভালো লেগেছে তোমার ?”
“খুউববব। ধুনোয় চোখ জ্বালা করছে, চল শিগগির, কারো বাড়ি আজ ঢুকতে দেবেনা !”
“কিন্তু খিদে পেয়েছে তো তোমার, কিছু তো নেইও এখানে দূর ছাই, কি যে করি !”
রিনি হাসছে ,” চল ঐতো আইসক্রীম রয়েছে, ওতেই হবে।”
এতটাই দেরী হয়ে গিয়েছে, মেট্রো অবধি পৌছনো মুস্কিল, অগত্যা ট্যাক্সি। “অনেক টাকা উঠবে তো?”
“উফ। চল তো কিছু হবে না। “

গত জন্মের বহু পুণ্যফলে ওই দিন অত রাতে অত ভেতরের গলিতে একটা ট্যাক্সি পাওয়া গেলো, ড্রাইভার বললেন, চিন্তা করবেন না, দ্রুত পৌঁছে দেবার চেষ্টা করবো। তাড়াতাড়ি হবে বলে ওরা বাইপাস নিলো। এবং ভাগ্যিস নিলো। পুজোয় যে ব্রীজটা নীল আলোয় এত সুন্দর সাজায় সেটা ওরা কেউই জানত না। হুহু করে ট্যাক্সি ছুটছে, নিচে আলো ঝলমল পুজোর কোলকাতা, বাইপাস এর দুধারে নীল আলোর তারার মালা ,ওদের জন্যই যেন সাজানো হয়েছে। খুউউব ভালো লাগতে থাকে রিনির, খুউউব। চোখ বন্ধ করে ট্যাক্সির সিট এ হেলান দিয়ে বসলো সে। অনেক্ষন বাদে হাতে আলতো ছোঁয়া পেয়ে চোখ মেলতে হলো, একজন ডাকছে “ঘুমিয়ে পড়লে নাকি, দেখো কি সুন্দর!” হাসছে রিনি মনে মনে – সে তো আগেই দেখেছে , ব্রিজ আসার আগেই অনেক দূর থেকে। ভীষণ বিচ্ছিরি রকমের ঘেমেছে ও, এক হাত দিয়ে জড়িয়ে নিয়েছে রিনিকে – গা থেকে ঘামের আর পারফিউম এর মিশ্র গন্ধ আসছে ওকে অবশ করে। চুপ করে আছে একদম রিনি। সে ছেলে অভ্যেসমত যথারীতি বকবক করেই যাচ্ছে। আইসক্রীমগুলো দুজনের কেউই শেষ করতে পারছে না, ফেলতেও পারছে না ,এত দাম দিয়া কেনা হলো। রিনির চুলগুলো মুখের উপর থেকে সরাতে সরাতে সে হাহা করে হাসছে “পুরো পাগলি লাগছে তোমায় !” বলতে বলতেই নালঝোল মাখা হঠাৎ চুমু, বাচ্চাদের মতো। আর বুকে মুখ রাখতে রাখতে রিনি খুব গোপনে গভীর সুখে মুছে নিচ্ছে চোখের জল। পিরিওডটা না হলে বোধ হয় সম্পর্কটা আজই শেষ হয়ে যেত অযত্নে, ভুল বোঝাতে।একটা ঠাকুরও দেখেনি ওরা , তবু ওর জীবনের সবচেয়ে দামী পুজোর সাক্ষী থাকলো এই দায়িত্ববান ট্যাক্সিচালক দাদার হাসিমুখ আর রাত এগারটার সুনসান বাইপাস এর নীল চাঁদোয়া।

এক প্যাকেট স্যানিটারি ন্যাপকিন , দুটো কর্নেটো আর বাইপাস এর নীল আলোগুলো এবারের মতো রিনির প্রেমটা বাঁচিয়ে দিলো বোধহয়।